১০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে চট্টগ্রামে পালিত হল বৌদ্ধদের অন্যতম উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা

প্রকাশ:


‎‎মোহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ):

‎‎আত্মশুদ্ধি, সংযম ও শুভচিন্তার বার্তা নিয়ে গতকাল ২৫ অক্টোবর ২০২৬ (রবিবার) বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে উৎসবমুখর এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। ‎এ উপলক্ষে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, বোধিবৃক্ষের নিচে হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণসহ দিনব্যাপী নানান আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এই পূর্ণিমা পালনের মাধ্যমে ভিক্ষু ও গৃহী সাধকদের অতীত ভুলের পাপমোচন হয়। ‎‎পুণ্যার্থী ও গৃহী সাধক-সাধিকাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল সন্ধ্যার ফানুস উৎসব। ফানুসের উজ্জ্বল আলো আর আতশবাজির ঝলকানিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের রাতের আকাশ। ‎‎বিহার প্রাঙ্গণ থেকে ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও মঙ্গলের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

‎এদিকে নগরীর চান্দগাঁও (বাস সিগন্যাল) সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারেও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক সেনা কর্মকর্তা রাহুল কান্তি বড়ুয়া চেকপোস্ট পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি সাংবাদিক হায়দার আলীকে জানান, ‎‎প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে দুপুর থেকেই বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। সন্ধ্যায় আকাশে রঙিন ফানুস উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের আমেজ বহুগুণ বেড়ে যায়। ‎‎যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং উৎসবটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে প্রতিটি বিহারে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

শেয়ার করুন