৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন পরবর্তী ইরানে হামলার যৌথ পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। ইসরাইলে সংসদ নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ইরানে নতুন করে কোনো বড় হামলা না চালানোর বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে নির্বাচনের পরপরই একটি স্বল্পমেয়াদী কিন্তু বিধ্বংসী সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য উভয় দেশের সেনাবাহিনী মহড়া জোরদার করেছে। এমনকি ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে আক্রমণের কৌশলও নিয়মিত অনুশীলন করা হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলে সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এমন একটি বড় ধরনের আক্রমণ ইরানের অর্থনীতিকে ধসের মুখে ঠেলে দেবে এবং দীর্ঘ আট মাসের চলমান সংঘাতের পর দেশটিকে কূটনৈতিক আপসের টেবিলে বসতে বাধ্য করবে। তবে বিশ্লেষকরা এই অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ডনাল্ড ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার বড় সংঘাতের পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছেন, তাই এবারের অভিযানে তিনি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

তেহরানও নতুন এই সামরিক হুমকিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন হামলা হলে তারা কেবল বাণিজ্যিক বা জ্বালানি স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ডেটা সেন্টার ও সমুদ্রতলে থাকা ইন্টারনেট কেবলও তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি স্পষ্ট করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করার চিন্তা করছে, তা সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত। তাদের প্রতিরোধ এবারের লড়াইয়ে অনেক বেশি তীব্র ও ভিন্নধর্মী হবে। তেহরানের বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির গভীর মাটির নিচে থাকা পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত করা হলে ইরান পাল্টা হিসেবে সৌদি আরবের বড় তেল শোধনাগারগুলোতে আক্রমণ চালাবে, যার ফলে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

আগামী নভেম্বরের শুরুর দিকে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, সহস্রাধিক মেরিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তবে ২৭শে অক্টোবরের ইসরাইলি নির্বাচন এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পুরো পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে জটিল করে তুলেছে। মূলত নির্বাচনের ফলাফল এবং তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প এখন কোনো বড় পদক্ষেপে যাচ্ছেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের সামরিক বিকল্প এখনো টেবিলে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন