৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইশরাক: পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল

প্রকাশ:

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আলোচিত এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান। ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার একান্ত ও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। এই ঘটনায় হইচই শুরু হলে ১২ ঘণ্টা পার না হতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান।

ইশরাক হোসেন জানান, ঘটনার পরদিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তাকে সময় দিয়েছিলেন। সে সময় তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে এলে প্রধানমন্ত্রী সভায় যোগ দেন এবং তিনি পাশের একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন। মিটিং চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে ক্যাবিনেটে তার নির্ধারিত আসনে বসতে বলেন। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পুনরায় তাদের মধ্যে কথা হয় এবং পরবর্তীতে কাজের কৌশল নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি উঠে সেখানে চলে যান। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তার পক্ষ দেওয়া বিবৃতিতে তিনি ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। ইশরাক বলেন, শনিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে ইশরাক হোসেনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তবে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে ইরশাক দাবি করেছিলেন, এ ধরনের সংবাদ সর্বৈব মিথ্যা।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ক্ষোভ রয়েছে কি না জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, কোনো দলই সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যের পদত্যাগ প্রত্যাশা করে না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু পত্রিকা সিন্ডিকেট করে তাকে এবং প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে হেয় করার চেষ্টা করছে। তবে বিরোধী দলের বিভিন্ন নেতা তাকে ফোন করে সমর্থন জানিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। পদত্যাগের সিদ্ধান্তে দলের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দল কখনোই চাইবে না যে তাদের মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য পদত্যাগ করুক। তারা যে কোনো উপায়ে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে আমার নেতা, প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়।’। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এই বিএনপি নেতা জানান, ২০২০ সাল থেকে তার সঙ্গে কাজ করা মূল কর্মীরা তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশে মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা অংশ নেন। ওই অভিযানে তাকে অস্ত্র হাতে মাদক বিক্রেতাদের তাড়া করতে দেখা যায়। ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে ইশরাক দাবি করেন, গোয়েন্দা তথ্যে হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থেই তিনি অস্ত্র উঁচিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।

প্রথমে পদত্যাগের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেও, সোমবার সকালে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। শপথ গ্রহণের মাত্র ৯ মাসের মাথায় তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেন ইশরাক হোসেন।

শেয়ার করুন