সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে পাট বীজ উৎপাদনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের ভাষায় ‘পাটের বিছন’ খ্যাত এই বীজ উৎপাদন করে তারা বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, গতানুগতিক পাট চাষের চেয়ে বীজ উৎপাদনের এই পদ্ধতিতে লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তারা এর দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া পাটখড়ি বা সোলা বিক্রি থেকেও তারা অতিরিক্ত অর্থ আয় করতে পারছেন, যা তাদের সামগ্রিক আয়ের পথকে প্রশস্ত করছে।
উপজেলার নাগরৌহা, ছোট বাখুয়া, পংরৌহা, ভদ্রকোলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা মূলত দেশীয় জাতের সাদা পাট চাষ করছেন। বিশেষ করে ‘সিভিএল-১’ (প্রত্যায়িত শ্রেণি) জাতের পাট চাষে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া খুবই অনুকূলে থাকায় পাটের ফুলে প্রচুর বীজ গুটি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া কয়ড়া, বড়হর, পুকুরপাড়, বেতুয়া এবং ছয়বারিয়া এলাকায়ও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে অনেক কৃষক পাট না কেটে বীজ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে জমিতে রেখে দিয়েছেন।
সরকারি উদ্যোগে উপজেলা কৃষি বিএডিসি কার্যালয় থেকে ৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে পাট বীজ দেওয়া হয়েছে। এসব কৃষকদের মধ্যে অন্যতম আজিম উদ্দিন, মেহের আলী প্রামাণিক, সাইদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন ও আশরাফ আলী। কৃষক মেহের আলী প্রামাণিক জানান, তিনি সরকারি সহায়তায় প্রায় দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন এবং তা থেকে বীজ সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শর্ত অনুযায়ী, সরকারি সহায়তায় উৎপাদিত এই বীজ তারা বিএডিসি কার্যালয়েই পুনরায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি সহায়তার বাইরেও অনেক কৃষক ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাট বীজ চাষ করছেন। কৃষক জাফর আলী, মোকাই হোসেন, আবদুল করিম ও জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় ১০-১২ জন চাষি হাট বা অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ কিনে আবাদ করেছেন। কৃষক জাফর আলী জানান, স্থানীয় পর্যায়ে কেনা বীজ থেকে চাষ করা পাট এখন বীজ সংগ্রহের জন্য রাখা হয়েছে। কৃষকরা ইতিমধ্যে গাছের উপরিভাগের বীজ অংশ কেটে বাড়ির উঠানে রোদে শুকানোর কাজও শুরু করেছেন।
উল্লাপাড়া বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক (পাট বীজ) মোছা. মরিয়ম বেগম জানান, সরকারিভাবে বীজ পাওয়া ৭০ জন কৃষক সফলভাবে আবাদ করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী, তাদের উৎপাদিত এই বীজ পরবর্তীতে সরকারিভাবে কিনে নেওয়া হবে। এছাড়া এলাকার কৃষকরা দেশীয় জাতের পাশাপাশি মেছতা, তোষা এবং কেনাফ বা আসমান তারা জাতের পাটেও আবাদ করছেন। বাজারে পাটের ভালো দাম এবং বীজ উৎপাদনের বহুমুখী সুবিধার কারণে উল্লাপাড়ায় প্রতি বছরই পাট চাষিদের সংখ্যা বাড়ছে।





