৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিবি পুলিশের হাতে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ আগরওয়ালা গ্রেপ্তার

প্রকাশ:

স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৯ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি গুলশান বিভাগ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সিআইডিতে দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্রে পুলিশের এই বিশেষ বিভাগটি তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে। সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় বাহিনীটি।

গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, সিআইডির অনুরোধে বনানী থেকে সন্ধ্যা ৬টায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিআইডির কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সিআইডির করা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সোনা ও হীরা ক্রয়ের আড়ালে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে দিলীপ আগারওয়ালার বিরুদ্ধে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গুলশান থানায় এই মামলাটি করে সিআইডি। সংস্থাটির তদন্ত অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধ পথে আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজার থেকেও বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরা সংগ্রহ করেছিল। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার প্রতিষ্ঠানের স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহের উৎস এবং সরবরাহকারীদের বৈধ নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এসব পণ্যের উৎস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানায় সংস্থাটি।

দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে এর আগেও নানা জালিয়াতি ও অপরাধের অভিযোগ উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগে তৎকালীন র‍্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলন চলাকালে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামের এক কিশোর হত্যার মামলাতেও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদিকে, দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগের অন্ত নেই। পরবর্তীতে তিনি জামিনে বের হয়ে আসেন।

শেয়ার করুন