৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুমায়ুন কবির -: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায়

প্রকাশ:

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। জেনেভা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এ ধরনের ঘটনায় পূর্বাপর তথ্য বিনিময় ও যোগাযোগের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা জানতে সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এটা যদি হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে এটা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। এটা খতিয়ে দেখার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা বলছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আটক হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে দ্রুত জানানোর রীতি রয়েছে, যাতে কনস্যুলার সহায়তা ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা সম্ভব হয়। সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এমন প্রত্যাশা করে। তবে এবার প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ও তথ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বর্তমান সরকার এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা নিরূপণ করা প্রয়োজন।

এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন আর ব্লাড মানি বা ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহার সুযোগ নেই। নিহতদের পরিচয় ও তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। সৌদি সরকারের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। অপরাধের দায়ে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনে বিচারপ্রক্রিয়া চলতে পারে, তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছ ও তথ্যগতভাবে অবহিত হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ. বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়ার পাশাপাশি সৌদি সরকারের কাছে ইতিপূর্বে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রের অনুলিপি রাষ্ট্রদূতের কাছে পুনরায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তথ্যগত এই অস্পষ্টতা কেন তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখতে দুই পক্ষই বর্তমানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন