২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ১৭ অক্টোবর, বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে পাস্তা দিবস

প্রকাশ:

প্রতি বছরের ১৭ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পাস্তা দিবস। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বৈচিত্র্যময় খাবার হিসেবে স্বীকৃত এই ইতালীয় খাবারটি এখন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, পাস্তার অস্তিত্বের প্রাচীন প্রমাণ পাওয়া যায় ১১৫৪ সালে ইতালির সিসিলিতে। এরপর বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের দিকে, অর্থাৎ ১৮৭৪ সালে ইংরেজি ভাষায় প্রথম এই শব্দের ব্যবহার লিপিবদ্ধ হতে দেখা যায়। সময়ের পরিক্রমায় পাস্তা কেবল একটি সাধারণ খাবার হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। পাস্তার প্রতি ভালোবাসা উদযাপনে অক্টোবর মাসজুড়েই পালন করা হয় পাস্তা মাস। পাস্তা তাজা অবস্থায় রান্না করা যায়, আবার শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণও করা যায়। পাস্তা রান্নায় কয়েকটি সহজ কৌশল পাস্তা রান্নার সময় পাত্রের পানিতে আগে লবণ মিশিয়ে নিতে হয়। রান্নার সময় কয়েকবার নেড়ে দিলে পাস্তা একটির সঙ্গে অন্যটি লেগে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। পাস্তা দিবসের শুরুর ইতিহাস নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

খাবার হিসেবে পাস্তার বৈচিত্র্য কতটা বিশাল, তা ওরেত্তা জানিনি দে ভিটা তার ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব পাস্তা’ বইটিতে বিস্তারিতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার গবেষণায় ৩১০ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন পাস্তার কথা উঠে এসেছে। মজার ব্যাপার হলো, এই বিপুল পরিমাণ পাস্তা প্রকারভেদে বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি বিভিন্ন নামে পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ, ‘ক্যাভাতেল্লি’ নামক পাস্তাটিই স্থানীয়ভেদে ২৮টি ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হয়। পাস্তা মূলত এক ধরনের নুডলস, যা ঐতিহ্যবাহী ইতালীয় খাবারের অংশ। সাধারণত গমের বিশেষ ধরনের ময়দা, পানি বা ডিম দিয়ে পাস্তার মণ্ড তৈরি করা হয়। পরে সেই মণ্ড পাতলা করে বেলে বিভিন্ন আকার দেওয়া হয়। পাস্তার আকার ও গঠনের ওপর নির্ভর করে এর সঙ্গে কোন সস ভালো মানাবে। অন্যদিকে, ফেটুচিনির (ফেটুচিনি – Fettuccine হলো এক ধরণের ঐতিহ্যবাহী ইতালীয় পাস্তা) গঠন তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় এর সঙ্গে আলফ্রেডোর মতো ঘন সস ভালো মানায়। পানি ভালোভাবে ফুটে উঠলে পাস্তা দিতে হবে। পাস্তা ছেঁকে ফেলার আগে কিছুটা পানি আলাদা করে রাখা যেতে পারে। বেশির ভাগ সস মিশিয়ে পাস্তা সংরক্ষণ করা গেলেও ক্রিম দিয়ে তৈরি আলফ্রেডোর মতো সস হিমায়িত না করাই ভালো।

পাস্তার জনপ্রিয়তা পাওয়ার অন্যতম কারণ এর বহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতা। এটি শুধু দুপুরের বা রাতের প্রধান খাবার হিসেবেই জনপ্রিয় নয়, বরং গরম কিংবা ঠান্ডা সহায়ক খাবার বা সাইড ডিশ হিসেবেও দারুণভাবে পরিবেশন করা যায়। বিভিন্ন সস ও মশলার সংমিশ্রণে পাস্তাকে সহজেই অনন্য স্বাদ দেওয়া সম্ভব। আজকের এই বিশেষ দিনটি পাস্তা প্রেমীদের জন্য তাই বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষের পছন্দের এই খাবারটি নতুন করে উপভোগ করার একটি উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট পাস্তা তৈরির যন্ত্রের সাহায্যে বাড়িতেও সহজে পাস্তা বানানো সম্ভব। পাস্তার ধরন ও নামের সংখ্যাও অবাক করার মতো।

শেয়ার করুন