থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সংস্কার কার্যক্রম এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই দুই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই বার্ষিক সভা ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ অক্টোবর ব্যাংককে শুরু হয়েছে।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান বিশ্বযুদ্ধ ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতা বিবেচনায় নিয়েও বাংলাদেশ যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। গত কয়েক দিনে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের তথ্য আদান-প্রদান ও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাংকিং খাতের পুনঃমূলধনীকরণ এবং কর-জিডিপি অনুপাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংস্থার কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যা স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, এসব বিষয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক জটিলতার সমাধান হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আগামী কয়েক মাস আলোচনা অব্যাহত থাকবে। পারস্পরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব আলোচনার ভিত্তিতে আজকের বৈঠকেও বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা সম্পর্কে আমির খসরু বলেন, সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে। আলোচনার প্রক্রিয়ায় শর্ত থাকাটা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে ধৈর্য ও আলোচনার মাধ্যমেই তা সমাধান করা হবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্ণ আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের একটি বিশ্বাসযোগ্য অর্থনৈতিক কৌশল রয়েছে বলেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা এত দূর সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও নীতিনির্ধারকরা অংশগ্রহণ করেছেন। সবার সম্মিলিত অংশীদারত্বের মাধ্যমেই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।





