৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ:

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের কৃষিকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে এখন মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যাচ্ছে না, যা সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে কৃষি খাতকে আধুনিক ও লাভজনক করার কোনো বিকল্প নেই।

পরিদর্শন ও মতবিনিময়

আজ সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্যের সংকট

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।’ তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ঐ অঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তারা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গবেষণা ও উন্নয়ন

  • পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একসময় আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো, বর্তমানে যার প্রয়োজনীয়তা কমেছে।
  • কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির ক্ষতি এবং ফসলের মান নষ্ট হওয়ার বিষয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
  • কৃষি বিজ্ঞানীদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ পেশায় আকৃষ্ট হবে না, বিধায় তিনি কৃষিমন্ত্রীর প্রতি পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান।

ইতিহাস ও কৃতজ্ঞতা

রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন সাহসী উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের কৃষিখাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজিপুর-২ এর সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সেলিম খান, বারি-এর মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। উপস্থিত নীতিনির্ধারকদের সামনে তিনি আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন