৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশবাসীকে সপ্তাহে দুদিন পরিচ্ছন্নতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ:

ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধ করতে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুদিন আধা ঘণ্টা করে নিজেদের বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি পরামর্শ দেন, শুধু টিকা নয়, জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘আসুন, আমরা প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব স্থানে ডেঙ্গু মশার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের চারপাশে জমে থাকা পানি থেকেই মূলত ডেঙ্গু মশা জন্মায়। সচেতনভাবে ঘরের আনাচকানাচ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার রাখতে পারলে এই রোগ মোকাবিলায় আমরা আরও সফল হব। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হচ্ছেন এবং প্রাণ হারাচ্ছেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অনেক পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন অর্জনের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান প্রশ্ন রাখেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান যদি আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারি, তবে ডেঙ্গুর মতো সমস্যা সমাধানে কেন সম্মিলিত অবদান রাখতে পারব না? তিনি বলেন, সরকার তখনই সফল হয় যখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা যায়। ডেঙ্গু নিরসনেও জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো সংগঠনের আরও প্রায় ৪০ লাখ সদস্য রয়েছেন। এসব শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সদস্যরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। টিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে ডেঙ্গু টিকার কার্যকারিতা সীমিত, তাই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ওপরই জোর দেওয়া বেশি কার্যকর। আগামী দিনে ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে বহু মানুষের জীবন রক্ষায় দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।

শেয়ার করুন