৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে হুতিদের হামলা অব্যাহত, ধোঁয়াশায় যুবরাজ সালমানের অবস্থান

প্রকাশ:

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আরও বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হামলার রেশ না কাটতেই তারা বিমানবন্দরগুলো গুঁড়িয়ে দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে বিদ্রোহীদের দাবি। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তাকে নিরাপত্তার খাতিরে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে না আসায় তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল জল্পনা-কল্পনা। দুটি সূত্র জানিয়েছেন, আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছিল। তারা যে হতাশ অবস্থায় আছে, তা ধরা পড়ে একটি বিষয়ে। ফলে খবরটাকে বিশেষভাবে সত্য বলেই মনে হচ্ছে। হুতিরা বলেছে, যেসব স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে, সেগুলো তাদের কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তু। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলার মাত্রা বেড়েছে। গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ১৩ জন নিহত হন। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হামলায় স্থাপনার বিভিন্ন তলায় ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, অগ্নিকাণ্ডের মাত্রা ছিল সীমিত এবং আরামকোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে তেমন কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। বুধবার রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই দিনে রাজধানী রিয়াদে আকাশপথের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়, যদিও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। সে সময় রাজধানীতে বেশ কিছু বিকট বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গিয়েছিল, যার কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি। তাদের একের পর এক হামলায় দৃশ্যত দিশাহারা সৌদি আরব। পাশাপাশি কানকথা ছড়িয়ে পড়েছে তিনি এখন কোথায়। কর্তৃপক্ষের মধ্যেও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

হুতিদের এই ধারাবাহিক হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন, সংঘাতের তীব্রতা তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ইয়েমেনে সৌদি সরকারপন্থি বাহিনীকে সহায়তা করার প্রতিশোধ হিসেবেই বিদ্রোহীরা এসব আক্রমণ চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন