৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশ, চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে অর্থনীতি ও রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, আগস্ট মাসে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মে মাসে তা তিন বছরের সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছিল। ১৯৯০ সালের পর থেকে মহামারি-কালীন সময় বাদে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে সেপ্টেম্বরের এই হারই সর্বোচ্চ। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ মার্কিন ভোটারদের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল। সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। তার ভাষায়, ‘যখনই তারা আমাকে আক্রমণ করতে চায়, তখনই বলে—জীবনযাত্রার ব্যয়।’। মূল্যবৃদ্ধি বেশি থাকায় গত মাসে ফেড ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছিল।

চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত পেট্রল ও জ্বালানি তেলের চড়া দাম দায়ী। গত বছরের তুলনায় পেট্রলের দাম ৩৪ শতাংশ এবং ঘর গরম রাখার জ্বালানি তেলের দাম ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে আকাশপথে যাতায়াতের খরচও ২২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ভোক্তাপণ্যের সামগ্রিক দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানির অস্থিতিশীল বাজার বাদ দিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, বার্ষিক মূল মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ২ দশমিক ৬ শতাংশে অবস্থান করছে। ছুটির সময়ে যাতায়াতের জন্য অনেক মার্কিন নাগরিকের ব্যবহৃত আকাশপথের ভাড়াও বেড়েছে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ।

মূল্যবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের বড় প্রভাব রয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বাড়ায় মার্কিন প্রতিটি পরিবারের ওপর অতিরিক্ত ১ হাজার ২০ ডলারের বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে মার্কিন ভোক্তারা সম্মিলিতভাবে ১৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া গত মাসে ডিজেলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

জনমত জরিপের চিত্র বলছে, দেশের এই পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছেন ভোটাররা। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই আয়ের তুলনায় মূল্যস্ফীতি দ্রুত বাড়ছে। এমনকি ট্রাম্পের দলের সমর্থক রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫৭ শতাংশও এই মতের সাথে একমত। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এমন জনমত সরকার ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য এ পরিস্থিতি নির্বাচনের আগে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

নিজের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা এড়িয়ে চলতে ট্রাম্প এই সংকটের জন্য ইরান সরকারকে দায়ী করছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অভিযোগ তোলেন, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ইরানের নির্দেশেই সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে তেলের দাম বাড়িয়ে মার্কিন নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে। একই দিন আলাস্কার ওয়াসিলা শহরে এক সমাবেশে ট্রাম্প অবশ্য তার সরকারের নেওয়া সহায়তামূলক কার্যক্রমকে ‘ব্যাপক’ বলে দাবি করে নিজের অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘তারা আবারও সক্রিয় হয়েছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়ানোর চাপের মুখে রয়েছে। এর প্রভাবে বাড়ি কেনার ঋণের সুদহার বেড়ে বর্তমানে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কুইল্টার শেভিয়টের গবেষণাপ্রধান রিচার্ড কার্টার মনে করেন, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে, যা নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা। কার্টার আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুদের হার কমানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তা যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য বহুল ব্যবহৃত ৩০ বছর মেয়াদি বন্ধকি ঋণের সুদের হার বেড়ে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।

শেয়ার করুন