২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেনে তীব্র আকার ধারণ করছে কলেরা, হুমকিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো

প্রকাশ:

ইয়েমেনে গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির চলমান নতুন সংঘাতের কারণে দুই লক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়শিবিরে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগটি এখন মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বাড়িঘর ছেড়ে পালানো মানুষ অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও এই সতর্ক বার্তা দিয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর সপ্তাহে দেশটিতে কলেরায় আক্রান্তের সন্দেহভাজন সংখ্যা ছিল ২১৭ জন। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে, অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবরের সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৭ জনে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে মোট আট হাজার ৩৪টি কলেরার সন্দেহভাজন ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত চার সপ্তাহেই মোট সংক্রমণের এক-চতুর্থাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ে এ রোগে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইয়েমেনে কয়েক বছর ধরেই কলেরার প্রাদুর্ভাব বাড়া-কমার ঘটনা ঘটছে।

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক জরুরি কার্যক্রমের পরিচালক অ্যানেট হেইনজেলম্যান জানান, সংঘাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে আসা পরিবারগুলো এখন নতুন করে সংক্রামক ও প্রতিরোধযোগ্য রোগের হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জরুরি অর্থায়ন, নিরাপদ পানির সরবরাহ, টিকাদান এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে না পারলে রোগটির প্রাদুর্ভাব আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় অংশ যেসব এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে, সেখানে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় অংশ আশ্রয় নিয়েছেন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পাঁচটি গভর্নরেট—আবিয়ান, লাহিজ, আল-দালেয়া, তাইজ ও এডেনে মোট সংক্রমণের ৯২ শতাংশ ঘটেছে। এছাড়া পূর্বাঞ্চলের হাদরামাউতের দুর্গম আশ্রয়শিবিরগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও সেখানে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সহায়তা পৌঁছানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিশ্বব্যাপী কলেরার প্রাদুর্ভাবে ইয়েমেনকে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডব্লিউএইচও। এর আগে ২০১৭ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে কয়েক লাখ মানুষ আক্রান্ত এবং অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছিল, বিশ্বব্যাপী কলেরার প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ইয়েমেন অন্যতম।

গত জুলাই মাসে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারের মধ্যে ফের সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর দেশটির ভঙ্গুর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তীব্র অন্ত্রের সংক্রমণজনিত এই রোগটি মূলত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত পানিশূন্যতা ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

বর্তমান সংকট মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগামী ৯০ দিনের জন্য ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের জরুরি তহবিল প্রয়োজন বলে জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছে। এই স্বল্প বাজেট দিয়েই আশ্রয়শিবিরগুলোতে রোগ পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি, দ্রুত সাড়াদানকারী দল গঠন এবং হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন