একটি সময় ছিল যখন সিনেমার পারিশ্রমিক দিয়ে জীবন নির্বাহ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন নাজিফা তুষি। অথচ আজ সেই অভিনয় থেকেই তাঁর জীবিকা ও জীবনধারা গড়ে উঠেছে। হাওয়া, প্রেশার কুকার কিংবা রইদ-এর মতো চলচ্চিত্রে কাজ করা তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। অনেক সময় সমালোচনা শুনতে হয়েছে যে তুষি হাওয়া হয়ে গিয়েছেন বা তাঁর হাতে কাজ নেই, কিন্তু সেসব না শুনে তিনি ধৈর্য ধরে কাজ করে গেছেন। আজ সেই কাজের ফল পাচ্ছেন একসাথে। এই বছর তাঁর একাধিক কাজ মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি তিনি নিজেও ভাবেননি। তুষি জানান, তিনি কখনোই হারিয়ে যাননি, বরং নিজের কাজে ডুবে ছিলেন। তবে এতগুলো কাজ এক বছরে চলে আসায় কিছুটা অবাকও তিনি। বর্তমানের এই রঙিন সময়টি যেন সহসা ফুরিয়ে না যায়, এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর। তিনি নতুন নতুন চরিত্র নিয়ে নিজেকে আরও যাচাই করতে চান। অথচ এই কাজগুলোই তাঁকে একটু একটু করে বদলে দিচ্ছে। তিনি এখন হয়ে উঠছেন অন্যদের কাছে আদর্শ। ‘একসময় অনেকে আমাকে বলেছিল, হাওয়ার পরে আমি নাকি হাওয়া হয়ে গিয়েছি। সেই কাজগুলো এ বছর একসঙ্গে মুক্তি পাবে, এটাও ভাবনার বাইরে ছিল,’ বলেন তুষি। এর মধ্যে রায়হান রাফীর আন্ধার সিনেমার প্রচারণা দিয়েও আলোচনায় আসেন তুষি। তিনি জানান, ‘অনেক কিছু করে ফেলব, বিষয়টা তেমন নয়। জানিও না এর পরে ক্যারিয়ারে কখন কী হয়।
ক্যারিয়ারের পথচলা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না তুষির। নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী পথ চলছেন এবং প্রতিটি ভালো সময়ে মানসম্মত চরিত্রে অভিনয়ের চেষ্টা করছেন। বিগত তিন বছরে নিজের কাজের ধরনে তিনি অনেক পরিবর্তন এনেছেন। তবে একটা বিষয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত, সেটি হলো দেশের সিনেমায় নারীকেন্দ্রিক গল্পের অভাব। পুরুষকেন্দ্রিক সিনেমার প্রাধান্য থাকলেও তিনি আশাবাদী যে সময়ের সাথে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, নারী শিল্পীদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমেই এই ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ওয়েব সিরিজ অ্যানি জার্মানির উৎসব থেকে সুখবর দেয়।
তুষির অভিনয়শৈলী এবং নাচের দক্ষতা নিয়ে দর্শকের মনে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। তবে সেসব প্রশ্নের উত্তর কাজের মাধ্যমেই দিতে চান তিনি। দীর্ঘ সময় পছন্দের চিত্রনাট্য না পাওয়ায় নিজেকে ভাঙার সুযোগ পাননি, তবে এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে। প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি, যেখানে নাচ, গান ও মারপিটের দৃশ্যও থাকতে পারে। আগামী বছরের ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি জানান, রোমান্টিক বা হরর ঘরানার সিনেমা করার সুযোগও তাঁর খুব একটা হয়নি, তবে এখন সব জনরার গল্পেই নিজেকে মেলে ধরতে চান। ‘বছরটা বেশি বেশি হয়ে গেল’ বছরের শুরুতেই খবর পান, রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়েছে তাঁদের সিনেমা রইদ।
মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘আন্ধার’ আগামী বছরের ২৬ মার্চ মুক্তি পাচ্ছে, যা আগে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। প্রেশার কুকার ইতিমধ্যে হইচই প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়ে দর্শকদের ভালো সাড়া পেয়েছে। সিনেমা মুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজকের সিদ্ধান্তকে তুষি স্বাগত জানান। তিনি মনে করেন, তাড়াহুড়ো করে সিনেমা মুক্তি দিলে প্রচার বা পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ সঠিকভাবে করা যায় না, যা লগ্নিকৃত অর্থের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই সিনেমা মুক্তির জন্য সঠিক সময়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর আবেগপূর্ণ ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তুষি। সেই শিক্ষার্থী কোনো প্রশ্ন না করেই সরাসরি বলেন, ‘আই লাভ ইউ, তুষি আপু। আমি আপনার মতো অভিনয়শিল্পী হতে চাই।’ এমন মন্তব্য তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সহকর্মীরা নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তিনি অজানা পথে ছুটেছেন। আজকের এই অবস্থান ও তরুণদের অনুপ্রেরণা হওয়ার বিষয়টি তিনি আগে কখনও ভাবেননি। তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের প্রতিটি পর্যায়ে কাজের মাধ্যমে নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান। পুরস্কারের চেয়ে চরিত্রের মধ্যে বেঁচে থাকাই তাঁর কাছে বড় সাফল্য। দীর্ঘদিনের পথচলায় পাশে থাকা পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।





