বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ১৭তম ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরামে অংশ নিয়ে দেশটির বিদ্যুৎ বিষয়ক সহকারি মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানি এবং কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া তিনি এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম-১৭-এর ফাঁকে গতকাল এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সৌদি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তীব্র নিন্দা জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তা সম্পর্কে সৌদি প্রতিনিধিকে অবহিত করেন। হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে আনা এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি সৌদি সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। এ সময় সৌদি মন্ত্রী ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন এবং উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের ২০৩০ সালের জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় ও সমঝোতা কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতা, স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কাতারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়। কাতার এনার্জির আন্তর্জাতিক পোর্টফোলিও থেকে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস ও রুট বহুমুখীকরণের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। বাণিজ্যিক ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও দুই দেশের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিনের তৃতীয় আলোচনায় এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এই খাতে বিনিয়োগে এসিডব্লিউএ পাওয়ার তাদের ইতিবাচক আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছে।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।





