২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে আকাশ প্রতিরক্ষা বাড়াবে তুরস্ক, পাঠানো হচ্ছে সেনা

প্রকাশ:

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করতে আঙ্কারা দেশটিতে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশগুলো তাদের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তুর্কি সরকার অতিরিক্ত কারিগরি দল ও সেনাসদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিটিও আমাদের অনুমোদন করতে হবে। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।

তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছর থেকেই সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় তুরস্ক কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন রেখেছে। এবার এই সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আঙ্কারা এখন নতুন করে কারিগরি কর্মী, জরুরি সাড়া প্রদানকারী দল এবং যুদ্ধসক্ষম সেনাসদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১০ সালে সম্পাদিত সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির ভিত্তিতে সীমিতসংখ্যক সেনা পাঠানোর সুযোগ থাকলেও, বৃহত্তর পরিসরে সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মুরাত ইয়েসিলতাশ জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে মক্কা চুক্তি ও সেনা মোতায়েনের বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে। পার্লামেন্টের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর সৌদি আরবে অভিজ্ঞ তুর্কি পাইলট ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে। তবে তুর্কি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, তারা সেখানে বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠাবেন না এবং ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে কতজন পাইলট এবং কতটি বিমান পাঠানো হবে, তা জানানো হয়নি।

সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তুর্কি বাহিনী সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ সমন্বয় ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া তুর্কি কমান্ড ইউনিটের নিজস্ব একটি আলাদা ঘাঁটিও থাকবে। এই সামরিক মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশ, রাজধানী রিয়াদ এবং পবিত্র শহরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মূলত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারেই তুরস্কের প্রাথমিক মনোযোগ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে আমরা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিলটিকে অগ্রাধিকার দিতে পারি।’। রিয়াদ, পবিত্র দুই শহর ও গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন সুরক্ষা।

মুরাত ইয়েসিলতাশ আরও উল্লেখ করেন যে, এই কৌশলী পদক্ষেপের মাধ্যমে রিয়াদের নিরাপত্তার সাথে তুরস্ক সরাসরি যুক্ত হবে। এতে করে তুরস্কের সামরিক সংশ্লিষ্টতা একটি নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট নিরসনের সম্ভাবনাকে এখনো উড়িয়ে দিচ্ছে না আঙ্কারা। সেপ্টেম্বরের পুরোটা সময় জুড়ে কারিগরি দলগুলো কমান্ড ঘাঁটি প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজে সৌদি আরবে অবস্থান করেছে, যা মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত রূপ পায়। মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রকল্পটির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল।’।

শেয়ার করুন