২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে আকস্মিক বন্যা: ভেসে গেল ৪০ বাড়ি, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

প্রকাশ:

নেপালের গোরখা জেলায় বুধি গণ্ডকী নদীতে রোববার ভোরে আকস্মিক বন্যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। চুমনুব্রি ও ধারচে গ্রামীণ পৌরসভা এলাকায় পানির প্রবল স্রোতে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। চুমনুব্রি পৌরসভার জগৎ বাগার, সাল্লেরি ও ঘাট্টিখোলা এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ধারচে-৩ এর সাল্লেরি এলাকার আরও ২০ থেকে ২২টি বাড়ি বন্যার তীব্র ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া না গেলেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যার পানিতে আরও কয়েকটি বসতি প্লাবিত হয়েছে। তবে বন্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বন্যার পানির তোড়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ন্যাকচেত ও সিরদিবাস এবং মাছাখোলা ও কেরাউজাকে সংযুক্তকারী দুটি ঝুলন্ত সেতু ছাড়াও আরুঘাট গ্রামীণ পৌরসভার সোটিতে অবস্থিত যান চলাচলের উপযোগী একটি লোহার সেতু ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া গোরখা ও ধাদিং সংযোগকারী আরুঘাট সেতুটিও ভেসে গেছে। নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, ন্যাকচেত ও ফিলিম বাজারকে যুক্তকারী আরেকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চুমনুব্রি-৩ এলাকায় নির্মাণাধীন ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতার বুধি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবির ও সরঞ্জামাদি পানির তোড়ে ভেসে গেছে। আরুঘাট গ্রামীণ পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে সোটিতে অবস্থিত যানবাহন চলাচলের উপযোগী একটি লোহার সেতুও ধ্বংস হয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে জোরদার উদ্ধার অভিযান চলছে। উঙ্গিলুং নদীর তীরে অস্থায়ী ছাউনিতে থাকা পাঁচজন এবং সিরদিবাস থেকে চুমলিংগামী চার থেকে পাঁচজন পশুপালক নিখোঁজ হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জগৎ এলাকা থেকে ছয়জনকে উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চুমনুব্রি পৌরসভার প্রশাসনিক প্রধান নারায়ণ প্রসাদ সাপকোটা। এ ছাড়া সিরদিবাস থেকে চুমলিংয়ের দিকে যাত্রা করা চার থেকে পাঁচজন পশুপালকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ জানায়, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে চুমচেতের কাছে বড় ধরনের ভূমিধসের কারণে কোনো উপনদীর পানি আটকে গিয়ে পরে হঠাৎ প্রবল বেগে নেমে আসায় এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রেও ওই এলাকায় ভূমিধসের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। বর্তমানে ত্রিশূলী নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। বেনিঘাট, মুগলিং, চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসি অঞ্চলের বাসিন্দাদের উচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বেনিঘাট পর্যন্ত নিম্নাঞ্চলে অতি উচ্চ বন্যাঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন