২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে গণগ্রেপ্তার নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, নাকচ করল ভারত

প্রকাশ:

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ে এই দিন সাত হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন। শুক্রবার রাত থেকেই মূলত এই অভিযান শুরু করে দিল্লি পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে দলটি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। যন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের জন্য সিজেপি আবেদন জানালেও দিল্লি পুলিশ তাতে কোনো অনুমতি দেয়নি।

বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে যায়। সিজেপির শীর্ষ তিন নেতা দীপকে, সৌরভ এবং রাঙ্কা মুম্বই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামামাত্রই তাদের আটক করা হয়। এভাবে বিক্ষোভকারীদের দমনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আসে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) শনিবার এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়।

জাতিসংঘের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। ভারতের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নয়াদিল্লির ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অযাচিত এবং অবান্তর। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সংবিধানের আওতায় নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার প্রদান করে। ভারতের বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যম স্বাধীন বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ভারতের সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো ধরনের অভিযোগ বা আইনি প্রতিকারের জন্য ভারতের আদালত সবার জন্য উন্মুক্ত। এছাড়া জাতিসংঘের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের দায়িত্ব হলো পক্ষপাতহীন হওয়া। সুতরাং জাতিসংঘের উচিত ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় হওয়া বিক্ষোভগুলোর দিকে সমান দৃষ্টি দেওয়া।

শেয়ার করুন