আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। টেস্টে প্রথম কোনো বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন তিনি। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম উইকেট নিয়ে এই অনন্য অর্জন নিশ্চিত করেন হাসান। ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বল থেকে শুরু হওয়া এই সাফল্যের ধারায় তিনি নিজের নাম লিখিয়েছেন টেস্টের দেড় শ বছরের ইতিহাসের ৫০তম হ্যাটট্রিকধারী হিসেবে। ২০২৬ সালে এটিই বিশ্ব ক্রিকেটে প্রথম হ্যাটট্রিক, যেখানে আগের ৪৯তম হ্যাটট্রিকটি ছিল স্কট বোল্যান্ডের দখলে। কিন্তু আম্পায়ারের হয়তো মনে হয়েছে বল স্টাম্প মিস করে যাবে। এরপরই জানা গেল, বল স্টাম্পে ঠিক ততটাই আঘাত করত, যতটা আউটের জন্য যথেষ্ট। আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর উইকেট নিয়েছেন টানা তিন বলে।
ম্যাচের এই নাটকীয় মুহূর্তটি আসে যখন বাংলাদেশ দলের ১১ জন ফিল্ডারই এলবিডব্লুর আবেদনে সোচ্চার ছিলেন। আম্পায়ার সাড়া না দিলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শেষ ৬ সেকেন্ড বাকি থাকতে রিভিউ নেন। সেই রিভিউ সফল হলে জিয়াউর রহমানের বিদায়ে হাসান হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এর আগে, ৮৩তম ওভারে তার ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড হন ইসমত আলম। হ্যাটট্রিকের দ্বিতীয় উইকেটটি ছিল কায়েসের, যার ব্যাটের কানায় লেগে যাওয়া বলটি দুর্দান্ত ডাইভে গ্লাভসবন্দি করেন উইকেটকিপার লিটন দাস। তাই তো রিভিউ চাওয়া হবে কি না সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনাও চলল নিজেদের মধ্যে। একজন ছিলেন লেগ স্পিনার, অন্যজন অফ স্পিনার। হাসানের ব্যাক অব আ লেংথের বলটি নিচু হয়ে ঢুকে যায় ভেতরে।
হাসানের দুর্দান্ত বোলিং তোপে আফগানিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে গুটিয়ে গেছে। দিন শুরুর সময় ৪ উইকেটে ২১১ রানে থাকা আফগানরা পরের মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারায়। এতে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নিতে সক্ষম হয়। হাসান এই ম্যাচে ৫৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছেন। ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের ১৬২তম টেস্ট ম্যাচ চলছে এখন আবুধাবিতে। এর আগে বাংলাদেশ টেস্টে মাত্র দুটি হ্যাটট্রিক দেখেছিল, যার প্রথমটি ২০০৩ সালে অলক কাপালির এবং দ্বিতীয়টি ২০১৩ সালে সোহাগ গাজীর ঝুলিতে এসেছিল। বাংলাদেশের এগারো ফিল্ডারই এলবিডব্লু চেয়ে জোরেশোরে আওয়াজ তুলেছিলেন। অবশেষে আজ সেই অপেক্ষার অবসান হাসানের হাতে।





