২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই মাসে ১ হাজার নতুন খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ

প্রকাশ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে ১ হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত আয়োজিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বৈঠকের সিদ্ধান্তের তথ্যগুলো গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন।

নগর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠের পরিকল্পনা

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দেন। এই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি খেলার মাঠ গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পথ সুগম হয়। এছাড়া প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা পর্যন্ত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

খাসজমি চিহ্নিতকরণ ও ক্রীড়া কর্মসূচি

  • দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে মাঠ নির্মাণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে।
  • মাঠগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
  • আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই বৃহৎ ক্রীড়া কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার নির্দেশ

বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলোকে সচল ও খেলার উপযোগী করে তোলা, জবরদখল হয়ে যাওয়া সরকারি খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সভায় অংশ নেন।

শেয়ার করুন