২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাগারে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক, পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস

প্রকাশ:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. আইয়ুব আলী চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দি হওয়ার পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কল্পনা রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী এলাকায় আইয়ুব আলীর বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের খোঁজখবর নেন। এ সময় তারা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি আইয়ুব আলীর আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে আইয়ুবের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ইশতিয়াক আহমেদের ভাষ্যমতে, আইয়ুব আলীর পরিবার বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। প্রতিবছর কয়েক একর জমিতে আগাম সবজি চাষ করা আইয়ুব কারাগারে থাকায় তার এবারের কৃষিকাজ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া তার ছোট দুই সন্তান নিয়ে স্ত্রীর অসহায় অবস্থার কথাও কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, আইয়ুব আলীর পরিবারের ওপর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ নেমে এসেছে। তিনি কারাগারে থাকায় এবার সেই কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ৬ অক্টোবর, যখন গুলিয়াখালী এলাকায় সারবোঝাই দুটি ট্রাক থামানোকে কেন্দ্র করে আইয়ুব আলী ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সাথে আইয়ুবও সেদিন ট্রাক দুটি গতিরোধ করেছিলেন। পুলিশের দাবি, ট্রাকের ওই সারগুলো আদালতের নির্দেশনায় থানা প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলাম করা হয়েছিল এবং চালকদের কাছে সেই বৈধ কাগজপত্র ছিল। স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে আইয়ুবও ট্রাক দুটি থামিয়েছিলেন।

তবে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান। তিনি জানান, ট্রাক থামানোর সময় চালকদের কাছে সারের মালিকানা বা পরিবহনের কোনো বৈধ কাগজ ছিল না। পরবর্তীতে পুলিশ নিলামের নথিপত্র উপস্থাপন করে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফরু মারমা জানান, এই নিলামের বিষয়ে কৃষি বিভাগকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। এছাড়া দুই ট্রাক সার সন্দ্বীপে যাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পৌঁছানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিলামের পর সারগুলো কার কাছে হস্তান্তর করা হলো বা সেগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায়, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। ওই কাগজের ভিত্তিতেই সারগুলো সন্দ্বীপে নেওয়া হচ্ছিল।

শেয়ার করুন