ভোলার দৌলতখান উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার মোট ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতেই বর্তমানে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, মাত্র ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জন চলতি দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাকি ৫২টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে কোনোমতে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। নিয়মিত প্রধান শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক তদারকি ও দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে চলতি দায়িত্বে কর্মরত আছেন ২১ জন এবং ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫২ জন।
বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে ৫৪টি, যদিও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫ জন সহকারী শিক্ষক ইতোমধ্যে যোগদান করেছেন। এছাড়া নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরী পদে ১০৬টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে মাত্র ৬৩ জন কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের এসব পদ শূন্য থাকায় সামগ্রিকভাবে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অপরদিকে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের সংখ্যা ৫৪।
ভুগান্তির চিত্র তুলে ধরে শিক্ষকরা জানান, দায়িত্ব পালন করা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ জয়নগর শমাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল আসমা জানান, প্রধান শিক্ষক ছাড়া সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন। একইভাবে প্রায় ২০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা মধ্য হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রহমান আজাদের কণ্ঠেও একই হতাশা ফুটে উঠেছে। দৌলতখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম জানান, ৬ জন শিক্ষকের স্থলে আছেন মাত্র ৪ জন। প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজে প্রতিনিয়ত চরম বিঘ্ন ঘটছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মু. জাহিদ উদ্দিন জানান, আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।





