২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনে প্রস্তুত কাতার, অবকাঠামো আছে ৯৫ শতাংশ

প্রকাশ:

ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন এবং এর দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকারকে পুঁজি করে কাতার এখন ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক এই বৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞ দোহায় নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশটি তাদের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের টুর্নামেন্ট পরিচালনার অভিজ্ঞতা, মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিশ্বমানের ক্রীড়া অবকাঠামোকে মূল ভিত্তি ধরে দেশটি তাদের বিড বা দরপ্রস্তাব জমা দিয়েছে। কাতারের এই উদ্যোগ কেবল একটি একক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের চেয়ে অনেক বড়, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া।

কাতারের এই অলিম্পিক অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে যাচ্ছে ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমস। এই টুর্নামেন্টটি দেশটির অবকাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই এবং বড় পরিসরের মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে। এশিয়ান গেমসের এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এশিয়ার অলিম্পিক কাউন্সিল এবং বিশ্ব ক্রীড়া সম্প্রদায়ের কাতারের সক্ষমতার ওপর যে গভীর আস্থা রয়েছে, তার একটি বড় প্রমাণ। কাতারের অলিম্পিক যাত্রায় পরবর্তী বড় মাইলফলক হতে চলেছে ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমসের পতাকা গ্রহণ।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) আনুষ্ঠানিক তালিকায় কাতারের নাম যুক্ত হওয়া এই বিডকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই উদ্যোগের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন কাতার অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং বিড কমিটির চেয়ারম্যান শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানি। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তার নেতৃত্বেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়, যা গেমস আয়োজনে দেশটির দৃঢ় অবস্থানের জানান দেয়।

এই বিডের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর অবকাঠামোগত প্রস্তুতি। পরিসংখ্যান বলছে, অলিম্পিক আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রীড়া স্থাপনা ও সরঞ্জামের প্রায় ৯৫ শতাংশই বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির আধুনিক স্টেডিয়াম, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জলক্রীড়া কমপ্লেক্স, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং আবাসন নেটওয়ার্ক কোনো নতুন অলিম্পিক সিটি গড়ে তোলার প্রয়োজন ছাড়াই বিশ্বমানের আসর আয়োজনে সক্ষম। মূলত বিদ্যমান পরিকাঠামোর দক্ষ রূপান্তর ও ব্যবহারই এই প্রস্তাবনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি আবাসন, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, সড়ক ও পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং লজিস্টিক সেবার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।

কারিগরি ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির বাইরেও কাতারের এই প্রচেষ্টায় যোগ হয়েছে আরব লীগ কাউন্সিলের মন্ত্রিপর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থন। বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উত্তরাধিকার এবং বিদ্যমান পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের মাধ্যমে কাতার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার আরেকটি নতুন ইতিহাস রচনার অপেক্ষায় রয়েছে। এই আঞ্চলিক সমর্থন কাতারের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

শেয়ার করুন