ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা এই ধারাবাহিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল। এনডিটিভির তথ্যানুযায়ী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকের পর বিরোধী নেতারা সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে করে সংসদ সদস্যরা যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন। তবে দিল্লির অশোক রোডে শাংরি-লা হোটেলের কাছাকাছি পুলিশ তাদের বাসগুলো আটকে দেয়। নির্ধারিত স্থানে যেতে না পেরে নেতারা রাস্তাতেই অবস্থান নেন এবং সিইসির পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিহারের ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিনের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তা গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিরোধীদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং কমিশন তাদের উদ্বেগকে বরাবরই এড়িয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী জোট। বুধবার নেতাদের আটকের ঘটনার পর বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভকে আরও জোরালো এবং বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আদায়ে বিরোধীরা অটল রয়েছেন এবং সামনের দিনগুলোতে এই কর্মসূচি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





