যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রবল আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট নিরসনে ব্যর্থতা এবং কানাডা দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর মতো বিতর্কিত পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড দখল ও গাজায় রিভেরা তৈরির মতো উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েও তিনি আলোচনায় রয়েছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী থেকে তুলে আনা, কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উচ্চ শুল্ক নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে তার কূটনীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এসবের পরও তিনি নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য দাবি করছেন, যদিও পুরস্কার জয়ের বিষয়ে তার মনে কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হননি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অধিক থেকে অধিক হারে শুল্ক আরোপ করে যাচ্ছেন। যিনি পুরস্কারটি পেয়েছিলেন, তিনি বলেছেন, ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউই এর যোগ্য নন।
নরওয়ের নোবেল কমিটি আগামী শুক্রবার ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে। ট্রাম্প বুধবার সাংবাদিকদের জানান, কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেবে তা তিনি জানেন না। তবে তাদের সুনাম রয়েছে এবং তারা তার মতো মানুষকে পুরস্কার না-ও দিতে পারে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে এই পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন। গত বছর ওভাল অফিসে তিনি মন্তব্য করেন, এখন সেই সময় এসেছে। গতবার পরোক্ষভাবে পুরস্কারটি পাওয়ার ঘটনায় তিনি সম্মানিত বোধ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন। মূলত ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০২৫ সালে নোবেল জেতার পর পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন, যাকে ট্রাম্প তার প্রাপ্য সম্মান হিসেবেই দেখছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর অন্তত আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন। তার এই দাবির প্রেক্ষিতে কম্বোডিয়া, ইসরাইল এবং পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এই মনোনয়নগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধানের কৃতিত্ব নিচ্ছেন, সেগুলোর সংশ্লিষ্ট পক্ষ তার ভূমিকায় অসন্তোষ জানিয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো কিছু এলাকায় নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও তিনি তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। লেক অব টরন্টোকে নিজের মতো করে লেক অব আমেরিকা নামকরণ করেছেন। গ্রিনল্যান্ডকে দখল করে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। ভেনিজুয়েলার তেল কার্যত নিজের দখলে নিয়েছেন।
ইরান ইস্যু ও ইসরাইলের হামলার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের প্রভাবও স্পষ্ট। ট্রাম্পের এসব দাবির বিপরীতে এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের নাম উঠে আসছে। পুরো বিষয়টি এখন নরওয়ের নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।





