২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পতিত জমিতে পানিফল চাষে ভাগ্যবদল

প্রকাশ:

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিচু ও জলাবদ্ধ জমিগুলো আগে বছরের দীর্ঘ সময় অকেজো পড়ে থাকত। কিন্তু বর্তমানে এসব জমিতে পানিফল চাষ করে অনেক কৃষকই ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। যেসব জমিতে অন্য কোনো ফসল ফলানো সম্ভব নয়, সেখানে পানিফল চাষকে এখন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন কৃষিবিদরা। স্থানীয়ভাবে এটি ‘শিঙাড়া’ নামে পরিচিত। দেখতে ভাজা শিঙাড়ার মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এই ফলের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। গাঢ় সবুজ বা খয়েরি রঙের এই ফলের খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা শাঁস খাওয়া হয়, যা অত্যন্ত সুস্বাদু।

কৃষক জামাল উদ্দিন জানান, আগে এই জমিগুলো পড়ে থাকত, কোনো কাজে লাগত না। এখন তিনি পানিফল চাষ করে পরিবারের খরচ মিটিয়ে বাড়তি আয় করতে পারছেন। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকদের হাতে নগদ টাকার টান থাকে, এই সময়ে পানিফল বিক্রি করে তারা ভালো আয় করছেন। ফলটি শুধুমাত্র কাঁচা খাওয়াই নয়, বরং শুকিয়ে আটা তৈরি করে রুটি বানানো যায়। এছাড়া পাকা পানিফল সবজি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কৃষিবিদদের মতে, ভবিষ্যতে এই ফল প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরির মতো উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে। পানিফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে স্থানীয় শ্রমিকদের জন্যও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে এমন জমিতে পানিফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের এই চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে চাষিরা বলছেন, এই চাষকে আরও সম্প্রসারিত করতে হলে উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। অনাবাদি জমিকে কৃষি কাজের আওতায় আনা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন