২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ধরপাকড় নিয়ে উদ্বেগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

প্রকাশ:

বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ইলাইন পিয়ারসন প্রকাশিত ‘বাংলাদেশি পুলিশ রাউন্ড আপ অপোজিশন সাপোর্টার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারের বিষয়টি অগ্রাহ্য করে নির্বিচারে বিরোধী মতাদর্শের মানুষদের আটক করছে। গত ২৬শে সেপ্টেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একটি সভা থেকে প্রায় ২৯০ জন সমর্থককে আটক করা হয়। যুবদলের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, সভাটি ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের একটি গোপন বৈঠক। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ২৭ জনকে আদালত হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক শত মানুষ নিহত হন। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দলটি নিজেদের বিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নির্বিচারে আটক করছে।

একই দিনে বরিশালে ১২ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে ‘নাশকতার পরিকল্পনা’ ও গোপন বৈঠকের অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। এর দুই দিন পর ঢাকায় আরও ১৫ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা দাবি করেছেন যে, তারা মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সমাবেশে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে কয়েকশ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যাদের সিংহভাগের বিরুদ্ধেই নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। জাসদ পূর্বে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অংশ ছিল, যা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের মুখে সেই সরকারের পতনের পর বর্তমান বিএনপিপন্থী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২৬ সেপ্টেম্বর যেদিন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভায় অভিযান চালানো হয়, একই দিন বরিশালে পুলিশ ১২ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটক করে।

ইলাইন পিয়ারসন তার প্রতিবেদনে আরও বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে মানবাধিকার ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তারা উল্টো নির্বিচারে বিরোধীদের দমনের পথ বেছে নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার সুরক্ষার প্রস্তাবিত বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সবার মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে সেই একই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। অতীতেও দমন-পীড়নের এ ধরনের ঘটনা দেশকে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে গেছে বলে মনে করে মানবাধিকার সংস্থাটি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কঠোর দমনপীড়নের মুখে পড়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে এ ধরনের দমনপীড়ন আরও বড় পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে।

শেয়ার করুন