২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিকল্পিত নগরায়ণ ছাড়া বাসযোগ্য গোপালগঞ্জ গড়া অসম্ভব

প্রকাশ:

সোমবার (৫ অক্টোবর) ‘সর্বজনীন বাসস্থান-টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে গোপালগঞ্জে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় নিরাপদ আবাসন ও টেকসই নগর গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান।

সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে আবাসনের চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। গোপালগঞ্জে নতুন বসতি স্থাপন ও নগর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রায়ই যথাযথ আইন ও মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করা হচ্ছে না। এই অপরিকল্পিত বিস্তৃতি ভবিষ্যতে নাগরিক সেবা প্রদান ও নগর ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

বাসযোগ্য শহর গড়ার রূপরেখা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, টেকসই নগরায়ণের জন্য কেবল আবাসন নয়, বরং জলাশয় রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, যানজটমুক্ত চলাচলের পথ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যেন সামাজিক বৈষম্য তৈরি না হয় এবং পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেদিকে কঠোর নজর দিতে হবে। তাদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের মতো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব আবাস নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আলোচনার শেষপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির সুষম ব্যবহার এবং সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও নগর পরিকল্পনাবিদদের যৌথ উদ্যোগে কাজ করা গেলে গোপালগঞ্জকে একটি পরিকল্পিত ও সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ও সুশৃঙ্খল উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল টেকসই ও বাসযোগ্য গোপালগঞ্জ নির্মাণ সম্ভব বলে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন