২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের সাথে আলোচনা ব্যর্থ: ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের লংমার্চ

প্রকাশ:

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছেন। খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে এই বহর বিভিন্ন পথ অতিক্রম করছে। এই কর্মসূচি শুরুর আগে পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সমঝোতার উদ্দেশ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার পথ রুদ্ধ হওয়ায় পিটিআই লংমার্চের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি লাক্কি মারওয়াতের গান্দি চক থেকে এই যাত্রা শুরু করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দলীয় বহর খায়রাবাদে পৌঁছাবে এবং রোববার দিবাগত রাতে কারাক এলাকায় অবস্থান নেয়। এরপর পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।

লংমার্চকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় রেঞ্জার্স সদস্যদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সূত্রমতে, আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রেঞ্জার্সরা দায়িত্ব পালন করবেন, যা আগে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। পিটিআই মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা দাবি করেছেন, আলোচনার ব্যর্থতার মূল কারণ হলো খাইবার পখতুনখোয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের একতরফা সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের দায় প্রাদেশিক সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, তাদের দল নীতিগত অবস্থানে অটল। যেকোনো সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা নিতে হলে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের সমঝোতা এবং সব রাজনৈতিক দলের মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত রেঞ্জার্স মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি প্রাদেশিক পরিষদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ এবং তাদের সম্মতির ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপের কাঠামো তৈরি করতে হবে।

এই লংমার্চ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি পিটিআই নেতাদের আদালতের নির্দেশনা অমান্য এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। আসিফ বলেন, পিটিআই কর্মীরা রাস্তায় অস্ত্র বহন করছেন, অথচ দলের শীর্ষ নেতারা বুলেটপ্রুফ সরকারি গাড়িতে নিজেদের আড়াল করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের নির্দেশই যদি তারা না মানেন, তবে সরকারের সঙ্গে করা কোনো চুক্তির নিশ্চয়তা কোথায় থাকবে? তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের বিষয়ে সবার সম্মতি থাকলেও পিটিআই তা মানছে না। আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে খাজা আসিফ দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনায় পিটিআই কোনো নিন্দা জানায়নি বা প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি।

অন্যদিকে, কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তান বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আমির মুকাম খাইবার পখতুনখোয়ার প্রাদেশিক সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রদেশটির জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন, কিন্তু প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে তা সমাধানে কোনো উদ্যোগ বা গুরুত্বের অভাব দেখা যাচ্ছে না। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির টানাপোড়েনে পাকিস্তান এখন এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সরকারি পক্ষ ও বিরোধী দল পিটিআইয়ের মধ্যকার দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। আমির মুকাম বলেন, খাইবার পখতুনখোয়ার জনগণ যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, আমরা তা বুঝতে পারছি।

শেয়ার করুন