১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় ৮২ শতাংশ মার্কিনির ক্ষোভ

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনঅসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এপি-এনওআরসি-এর সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিপরীতে ৮২ শতাংশ নাগরিকই অনাস্থা জানিয়েছেন। তার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ। মার্কিন রাজনীতির চরম মেরুকরণের যুগেও মুদ্রাস্ফীতির মতো জাতীয় ইস্যুতে প্রায় ৮০ শতাংশ নাগরিকের একাট্টা অবস্থান দেশটিতে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, দেশটির প্রতি ১০ জন নাগরিকের মধ্যে আটজনই নিত্যপণ্যের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের চরম মেরুকৃত রাজনীতিতে যেকোনো বিষয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের একমত হওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে মুদ্রাস্ফীতির মতো জাতীয় বিষয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ একাট্টা হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধাচরণ করছেন।

এর আগে রয়টার্স-ইপসোস এবং মারকেট ল স্কুলের জরিপেও দেখা গিয়েছিল যে, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের প্রতি অনুমোদনের হার ১৭ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের মধ্যেও অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষ অসন্তুষ্ট। এমনকি ‘মাগা’ সমর্থক হিসেবে পরিচিত কট্টর ট্রাম্পপন্থীদের মধ্যেও ২৯ শতাংশ তার অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জরিপের তথ্য বলছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিনি বর্তমানে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী মূল্যের জন্য সরাসরি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকেই দায়ী করছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সৃষ্ট এই জনরোষ যেকোনো সময়ের তুলনায় তীব্র। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে অসন্তোষের হার ছিল ৭৭ শতাংশ এবং ১৯৮০ সালে উচ্চ বেকারত্ব নিয়ে জিমি কার্টারের প্রতি অসন্তোষ ছিল ৭৪ শতাংশ। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ কিংবা রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির মতো আলোচিত ঘটনাবলির চেয়েও বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ইস্যুতে জনগণের ক্ষোভের মাত্রা অনেক বেশি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে টাইম ম্যাগাজিনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাধারণ নাগরিকদের কাছে উচ্চমূল্যের জন্য তাকে দায়ী না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বরং দ্রব্যমূল্যের এই পরিস্থিতির জন্য তার পূর্বসূরি বাইডেন প্রশাসনকে দায়ী করার চেষ্টা করেছেন। তবে জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দায় চাপানোর এই কৌশল জনমনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলছে না। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া রিপাবলিকানদের জন্য জনগণের এই তীব্র অর্থনৈতিক হতাশা বর্তমানে বড় ধরনের অস্তিত্বের সংকটে রূপ নিয়েছে।

শেয়ার করুন