১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপনীয় তথ্য অপব্যবহারের দায়ে তিন গবেষককে ছাঁটাই করল ওপেনএআই

প্রকাশ:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সুরক্ষা ও ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যেই বড় পদক্ষেপ নিল চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। সংবেদনশীল তথ্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার না করার অভিযোগে নিজেদের তিন গবেষককে বরখাস্ত করেছে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, নিজস্ব তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই তিন কর্মী নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে স্পর্শকাতর তথ্যের অপব্যবহার করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানের আস্থার জায়গাটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এক বিবৃতিতে ওপেনএআই এএফপিকে বলেছে, ‘আমরা তিনজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। এআই কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁরা হলেন জেসমিন ওয়াং, তোমেক কোরবাক এবং মিকিতা বালেসনি। এই গবেষকরা সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এআইয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সরব ছিলেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর মিকিতা বালেসনি একটি পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন যে, এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা ১০ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া ১১ সেপ্টেম্বর তোমেক কোরবাক প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছিলেন যে, ওপেনএআইয়ের অনেক সিদ্ধান্তেই তিনি খুশি নন, তবে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। তবে এই তিনজন এএফপির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি। মিকিতা বালেসনি গত ১০ সেপ্টেম্বর এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমি ওপেনএআইয়ে কাজ করি এবং আমার মনে হয়, এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যাওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কয়েকজন কর্মীও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এআই খাতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত মাসে অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী গবেষক জ্যাকব কক্সন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, ওপেনএআইসহ শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমে মূলত মানবজীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। এই প্রেক্ষাপটে ওপেনএআই তাদের নতুন ‘অ্যাস্ট্রা ৬.১’ মডেলটির মুক্তিও স্থগিত করেছে। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, মডেলটি পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয় এবং এতে নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা রয়েছে।

তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করতে গিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অবহেলার অভিযোগ নিয়মিত সামনে আসছে। একদিকে কোম্পানিগুলোর উদ্ভাবনী দৌড় এবং অন্যদিকে প্রযুক্তিবিদদের এআইয়ের অস্তিত্বসংকট নিয়ে সতর্কতা—সব মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওপেনএআই বা অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার কাঠামোয় কতটা স্বচ্ছতা আনতে পারে। এতে আমাদের নীতিমালার লঙ্ঘন ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যা আমাদের কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’।

শেয়ার করুন