১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ:

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সরাসরি সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, নেতানিয়াহু দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি বর্তমানে রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। এর পরিবর্তে তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের ওপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া উচিত কি না। ট্রাম্প বলেন, অনেকবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে, যেমনটা তাকেও বহুবার ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে নেতানিয়াহুকে খাটো করে দেখার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন তিনি। এরপর ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করাই তার প্রধান বিষয় বলে উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রতি নিজের জনপ্রিয়তার কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প।

নির্বাচনের বিরোধী প্রার্থী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কার্যকর সম্পর্ক গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, আইজেনকোট সম্পর্কে তার কাছে কোনো নেতিবাচক তথ্য নেই। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, অতীতে অনেকবারই মনে করা হয়েছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ, ঠিক যেভাবে তার নিজের বেলায়ও এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তার পূর্বের বিভিন্ন নীতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের মাঝে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বর্তমানে প্রায় ৯৯ শতাংশ।

সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক অভিযান নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। শুরুতে ইরানবিরোধী অভিযানটি চার থেকে আট সপ্তাহের একটি সংক্ষিপ্ত পরিকল্পনা হিসেবে থাকলেও, পরবর্তীতে তিনি ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের কারণে অভিযানটি প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে তিনি জানান। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নিজের হাতে নিয়েছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বিমান হামলার তীব্রতা বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রথমে এটি ‘সম্ভব’ বলে মন্তব্য করলেও, পরে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।

শেয়ার করুন