১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেনেসিতে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের পরেও অলৌকিকভাবে জীবিত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৫০ বছর বয়সী নারী কয়েদি ক্রিস্টা গেল পাইকের শরীরে দুই দফায় প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার পরও তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েননি। এই অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতার পর তাকে অচেতন অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আইনজীবীদের নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ দুই শতাধিক বছরের আইনি ইতিহাসে টেনেসিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড এভাবে ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। বিশেষজ্ঞরা পুরো বিষয়টি অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব বলে মন্তব্য করছেন। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নাটকীয়তা

১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের সহপাঠী কলিন স্লেমারকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ক্রিস্টাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুধবার সকালে তার দণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে আপিল আদালতের স্থগিতাদেশ এবং পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের সেই আদেশ খারিজের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে রাত ৭টা ২৭ মিনিটে তাকে এক্সিকিউশন চেম্বারে নেওয়া হয়। রাত ৮টা ২৬ মিনিটের মধ্যেই তাকে প্রাণঘাতী বিষাক্ত ওষুধের দুটি পূর্ণ ডোজ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ওষুধ প্রয়োগের পরও তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়নি, উল্টো তাকে জীবিত এবং জোরে শ্বাস নিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে মাইক বন্ধ করে পর্যবেক্ষকদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

আইনজীবীদের অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি

  • আইনজীবীরা অবিলম্বে দণ্ড স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন।
  • ব্যর্থ এই প্রক্রিয়ায় ক্রিস্টা অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন, যা মার্কিন সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
  • আদালতের কাছে তাকে দ্রুত জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
  • ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রবিন এম মাহের জানান, প্রাণঘাতী ড্রাগ শরীরে প্রবেশের পরও কয়েদির বেঁচে থাকার ঘটনা ইতিহাসে বিরল।

উল্লেখ্য যে, টেনেসিতে এ বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। আইনি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ব্যর্থতার দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন। এখন পুরো বিষয়টি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টসহ সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন