পাবনা সদরের দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকার গৃহবধূ খুশি খাতুনের প্রিয় পারসিয়ান বিড়াল ‘লিলি’ গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়। বিড়ালটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় পরিবারটি আরও বেশি দুশ্চিন্তায় পড়ে। লিলিকে ফিরে পেতে মালিকপক্ষ মাইকিং, পোস্টার লাগানো এবং স্থানীয় পত্রিকার সাথে লিফলেট বিলির মতো নানা উদ্যোগ নেয়। এক পর্যায়ে এক অজ্ঞাতনামা নারী ফোন করে বিড়ালটি পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তিনি সেটি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। চলে মাইকিং, শহরে সাঁটা হয় পোস্টার; বিলি করা হয় লিফলেট।
বিড়ালটি ফিরে পাওয়ার কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত খুশি খাতুন পাবনা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই নারীর মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর আজ বুধবার সকালে জেলা সদরের সিঙ্গা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিড়ালটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। দুপুরে উদ্ধার হওয়া বিড়ালটি মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে কিছুটা মন খারাপ থেকেই থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ যে বিড়ালটি উদ্ধার করতে পারবে, তা ভাবতে পারেননি।
পরিবারের সদস্য সাদিয়া করিম জানান, লিলি হারিয়ে যাওয়ার পর পুরো বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। প্রায় এক বছর আগে পরম মমতায় বিড়ালটিকে বাড়িতে এনেছিলেন তাঁরা, যা এখন তাঁদের পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরে বিড়ালটির বাচ্চা দেওয়ার কথা রয়েছে। বিড়াল হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত খুশি খাতুন বলেন, ‘আমি লিলিকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করি। ফিরে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।’ পরিবারের সবাই মিলে বিড়ালের খোঁজ শুরু করেন। ঠিকানা জানতে চাইলে ভুল ঠিকানা দিচ্ছিলেন।
এই সফল উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অজ্ঞাতনামা নারীর অবস্থান নিশ্চিত করি। সকালে অভিযান চালিয়ে বিড়ালটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মালিক ও তাঁর পরিবার বিড়ালটি ফিরে পাওয়ায় আমরাও আনন্দিত।’





