১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি-আমিরাত সমঝোতার প্রচেষ্টা

প্রকাশ:

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী জোট পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে সৌদি আরব। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে সমঝোতায় আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইয়েমেনে আমিরাতের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্ধারণে সম্প্রতি আবুধাবিতে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নেতানিয়াহু হুতিদের পরাজিত করতে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সৌদি আরবের জন্য এ প্রস্তাব গ্রহণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, কারণ ডনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইয়েমেনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সহায়তা নিশ্চিত করেননি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশই ইয়েমেনে হুতিবিরোধী শক্তিগুলোকে সমর্থন দিয়েছে আগে। কিন্তু সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ইরানের মিত্র হুতিদের আকস্মিক সাফল্য পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতিকে আবারও বদলে দিয়েছে। দক্ষিণমুখী এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক সমর্থনপুষ্ট ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের নেতৃত্বে থাকা তারেক সালেহর বাহিনী পরাজিত হয়।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার রিয়াদে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অংশ নেন। মূলত ইয়েমেনের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে হুতিদের এগিয়ে যাওয়া এবং ইরান-সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক সাফল্যের কারণেই এই দুই দেশ নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসেছে। এ বছরের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের হামলায় আমিরাত-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসির বাহিনীর পরাজয় ঘটলে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত কার্যত ইয়েমেন থেকে সরে যায়, যা ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে অস্থির করে তোলে। দুই দেশের পক্ষ থেকে পাওয়া বিভিন্ন ইঙ্গিতের মধ্যে এটিও একটি।

বর্তমানে হুতিরা তাদের দখলে নেয়া এলাকাগুলো সুসংহত করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজ দখলের পরিকল্পনা করছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) উপসাগর ও ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বারা শিবান জানান, হুতি বাহিনী শহরটিতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি তাইজে এক সপ্তাহ কাটানো শিবান উল্লেখ করেন, হুতিরা শহর রক্ষাকারী বাহিনীকে ক্লান্ত করে ফেলতে চাইছে। যদিও তাদের সাময়িক পিছু হটানো সম্ভব হয়েছে, কিন্তু তারা ক্রমাগত অন্য ফ্রন্ট থেকে নতুন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সম্ভাব্য পুনর্মিলন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে এসটিসির সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের পূর্বের সংঘাত সমঝোতার পথে বাধা হতে পারে। ইয়েমেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এসটিসির সমর্থক খালেদ আল ইয়েমানি জানান, দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সৌদি আরবকে নতুন করে ভাবতে হবে। তার মতে, আমিরাতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জায়ান্ট ব্রিগেডস হুতিদের দমনে সবচেয়ে দক্ষ ছিল। অথচ সংঘাতের মুখে এসটিসির নেতা এইদারুস আল-জুবাইদি দেশত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ায় রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ জটিল আকার ধারণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, জ্বালানি খাতসহ অন্যান্য ইস্যুতে দেশ দুটি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না। দক্ষিণ ইয়েমেনকে আবার পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার এসটিসির প্রচেষ্টা ঠেকাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। অন্তত জ্বালানি খাতের মতো কোনো একটি বিষয়ে হলেও। আর এসটিসির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক থাকায় রিয়াদ সম্ভবত তাদের আবার ফিরে আসতে দেবে না।

শেয়ার করুন