১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যটন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান

প্রকাশ:

দেশের পর্যটন শিল্পের প্রসারে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য আধার। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, চট্টগ্রামের পাহাড় ও হ্রদ এবং সিলেটের চা-বাগানসহ পুরো দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই পর্যটনের অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। এই বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ও টেকসই পর্যটন শিল্পে রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। আমাদের রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, চট্টগ্রামের মনোমুগ্ধকর পাহাড় ও হ্রদ; সিলেটের সবুজে ঘেরা চা-বাগান; এবং সর্বোপরি, আমাদের মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের গল্প।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের বিকাশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ সহজতর করার লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুদৃঢ হবে।

এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরকে শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে বোয়িং ও এয়ারবাসের সমন্বয়ে কাজ চলছে। এ সময় তিনি ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাছে এয়ার কার্গো সংক্রান্ত একটি বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কার্গো ও ডাককে ‘হায়ার রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে। এই বিধিনিষেধ কাটিয়ে উঠতে সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এভিয়েশন খাতের গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বিমান চলাচল খাতের সঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়নের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, গত ১৭ জুলাই যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের মূল্যায়নে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে। এই ইতিবাচক মূল্যায়নের প্রেক্ষিতে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে পাশে থাকা যুক্তরাজ্যের জনগণ পর্যটন খাতের বিকাশেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদী। একটি নিরাপদ ও অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠানে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা কেবল কয়েকটি সুপরিচিত গন্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগসমূহ মোকাবিলায় আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

শেয়ার করুন