বাংলাদেশ ফুটবল দলের পুরোনো সেই আক্ষেপ যেন পিছু ছাড়ছে না। আসিয়ান কাপের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত গোলমুখের খেলায় পিছিয়ে পড়ে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচে বল দখলে রাখা থেকে শুরু করে আক্রমণে ওঠা—সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশের প্রচেষ্টা ছিল, কিন্তু গোলপোস্টের ঠিকানা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছেন ফরোয়ার্ডরা। আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষেও একই চিত্র দেখা গেছে।
ম্যাচের ১৯ মিনিটে রাকিব হোসেন এবং ৬৪ মিনিটে শমিত শোমের নেওয়া শটগুলো কিছুটা আশার আলো দেখালেও তা কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ৪৬ থেকে ৭৯ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশ তিনটি বড় আক্রমণ তৈরি করলেও সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগ তা রুখে দেয়। এছাড়া পুরো ম্যাচে ৯টি কর্নার পেয়েও কোনোটি থেকে গোল আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ। গত জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও এবারের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দলের সেই পুরনো দুর্বলতাই সামনে চলে এসেছে। ৪৬ থেকে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশের তিনটি চমৎকার আক্রমণ প্রতিহত করেছেন সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডাররা। বাকি ছয় ম্যাচের চারটিই ড্র, হার দুটি। গোল হজম করেছে বাংলাদেশ, আবার গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরেছেও।
আক্রমণভাগে ব্যর্থতার বিপরীতে রক্ষণভাগ ছিল বেশ সজাগ। ১৭ মিনিটে মেহেদী হাসানের দুর্দান্ত সেভ, ১৮ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার ব্লক, ৩৩ মিনিটে মেহেদীর আরেকটি সেভ এবং তারিক কাজীর ব্লক বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া থেকে বাঁচিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের ৪৭ ও ৫৬ মিনিটেও গোলকিপার মেহেদী আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। সব মিলিয়ে সিঙ্গাপুরের অন্তত ছয়টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দিয়েছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।
এ বছরের চিত্রটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মার্চে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের কাছে হারের ম্যাচে দল কোনো গোলই করতে পারেনি। অথচ গত বছর আটটি ম্যাচের মধ্যে ভারত ও ভুটানের বিপক্ষে জয় এসেছিল, যেখানে গোল করার মানসিকতা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের আসিয়ান কাপে এসে সেই লড়াইয়ের ছাপ থাকলেও শেষ কাজটি অর্থাৎ ফিনিশিংয়ের অভাবটাই বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ফল খুব একটা উজ্জ্বল না হলেও ওই ম্যাচগুলোতে অন্তত লড়াইয়ের ছাপ ছিল। অর্থাৎ হারলেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা ছিল।
টমাস ডুলির শিষ্যরা আক্রমণে গিয়ে সুযোগ তৈরি করতে পারলেও জালে বল পাঠানোর মূল কাজটি করতে পারছে না। রক্ষণে যতই লড়াই থাকুক না কেন, ফরোয়ার্ডদের এই গোলখরা অব্যাহত থাকলে বড় আসরে ভালো ফল পাওয়া কঠিন। সান মারিনোর বিপক্ষে জয়ের স্বস্তি এখন যেন কেবল বিচ্ছিন্ন এক স্মৃতি, আসল ম্যাচে গোলমুখের সেই চিরচেনা দুর্বলতা আবারও বাংলাদেশের কপালে হারের বোঝা চাপিয়ে দিল।





