১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ:

সোমবার সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা বিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার লক্ষ্যে সরকার একটি খসড়া বিল প্রস্তুত করেছিল। মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর আইটি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনটি শেষ পর্যন্ত নিপীড়নমূলক কোনো কাঠামোয় পরিণত না হয়। ক্যাবিনেটে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমার যেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করি। যারা সাইবার স্পেসে কাজ করেন, আইটি এক্সপার্ট তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সংগঠনসহ সবার সাথে আলোচনা করেছে। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এই আইন গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায্যভাবে এর শিকার না হন, সেটি সরকার নিশ্চিত করতে চায়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়া এবং আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবও খসড়ায় রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইনটা করতে চাইনি, চাইও না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক—সেটা আমরা চাই না।’ ‘যাতে সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য একটা প্রস।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধান সম্পাদক ও নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সংশোধনী ছাড়া সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট পাশ হলে বাংলাদেশ বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।’ তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিচার ও গ্রেফতারের বিধানকে ‘জঘন্য কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করে তা বাতিলের জোরালো দাবি জানান। কোভিডের সময় নিজের আইনি ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই আইন থেকে সুরক্ষা পাওয়ার নিশ্চয়তা কী? কোভিডের সময় আমাকে ৬ বার আদালতে যেতে হয়েছে।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম আইনের বর্তমান খসড়া দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং একে গণমাধ্যমের জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে আখ্যা দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিধানটি কীভাবে আইনের খসড়ায় যুক্ত হলো—তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে মিডিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রস্তাবনা প্রদান করা সম্ভব হবে।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত গ্রহণের জন্য খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংগঠনের কাছ থেকে পাওয়া মতামতগুলো সংকলন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সবার আলোচনার মধ্য দিয়ে এই আইনটি সমৃদ্ধ করা হবে এবং এর ফলে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরা সুরক্ষিত থাকবেন।

শেয়ার করুন