জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নিয়ে একটি বিশেষ ‘কল টু অ্যাকশন’ বা জরুরি পদক্ষেপ বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাতার, জর্ডান এবং যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই ত্রিপক্ষীয় সভায় কাতারের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিন সালেহ আল-খুলাইফি।
বৈঠকে ড. আল-খুলাইফি ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা লাঘবে নিজের দেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, গাজায় দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ও নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর রেজুলেশনে অনুমোদিত ২০ দফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাতার নিরলসভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মানবিক সহায়তার চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, কাতার এখন পর্যন্ত গাজার প্রায় ৪ লাখ ৩৬ হাজার মানুষকে খাদ্য, তাঁবু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করেছে। এর পাশাপাশি শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থাকি রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড প্রস্থেটিকস হাসপাতালটি পুনরায় সচল করার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করেন। গত তিন বছরে গাজায় প্রায় ৩ কোটি লিটার জ্বালানি পাঠানো হয়েছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সাথে হওয়া নতুন চুক্তির আওতায় আরও ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। সম্প্রতি চিকিৎসা কেন্দ্র ও জরুরি সেবাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে জাতিসংঘর সাথে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় আরও ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।
শীত মৌসুমকে সামনে রেখে গাজাবাসীর জন্য দ্রুত আশ্রয়, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপর জোর দেন ড. আল-খুলাইফি। তিনি বলেন, মানবিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা কেন্দ্র ও পরিবহনের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। পরিশেষে তিনি জানান, ফিলিস্তিনের জরুরি চাহিদা পূরণ ও টেকসই শান্তির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও পিস বোর্ডের সাথে কাতার তার কাজ অব্যাহত রাখবে।





