১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স

প্রকাশ:

সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু তেল বন্দর সুরক্ষায় সেনা ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্স ২ এবং টিএফ১ টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মূলত ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে এই বন্দর ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা অবস্থায় ইয়ানবু বন্দরটি সৌদি তেলের প্রধান বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ম্যাখোঁ পরিষ্কার করেছেন যে, এই সামরিক পদক্ষেপ কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি রক্ষার স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সেখানে সেনা সদস্যের পাশাপাশি রাডার ব্যবস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার যে কোনো সিদ্ধান্তকে বিপর্যয়কর বলে আখ্যায়িত করেন। হোয়াইট হাউস অবশ্য এমন পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। এদিকে জ্বালানি সংকটের বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয় রয়েছে। ম্যাখোঁ বলেন, ‘আমি এটি অস্বীকার করছি।

ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ম্যাখোঁ সতর্ক থাকলেও, তিনি স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল মুন্দো’-এর একটি প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ভূমধ্যসাগর থেকে ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে মার্কিন সিআইএ। ম্যাখোঁ দাবি করেন, সিআইএ ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থাকে এমন কোনো তথ্য দেয়নি। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার মতো ঘটনার শিকার ফ্রান্সও হতে পারে।

এসব হুমকির মোকাবিলায় ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের নিয়ে এলিসি প্রাসাদে বৈঠক করেছেন ম্যাখোঁ। তিনি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সাইবার ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে নতুন পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইউক্রেনকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ইউরোপের ঐক্য নষ্ট করতে মস্কো ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়ে প্রেসিডেন্টের এই শক্ত অবস্থান এ সপ্তাহে কিছুটা শিথিল হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এর অন্যতম কারণ হলো, ফ্রান্সের উদ্যোগে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশের উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্স, যার বিনিময়ে আজারবাইজান কারাগারে থাকা এক ফরাসি নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলোর আনা এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাশিয়াবিরোধী উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো। রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব হাইব্রিড যুদ্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

শেয়ার করুন