১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে টিকাদান কেন্দ্রে মধ্যরাতে হামলা, গুঁড়িয়ে দেয়া হলো স্থাপনা

প্রকাশ:

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ ভয়াবহ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে প্রায় ২৫০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্লিনিকে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা দায়িত্বরত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে প্রতিষ্ঠানটি দখলে নেয় এবং ভাঙচুর শুরু করে। এই সেন্টার দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুখোশ পরা ২৫০ জনেরও বেশি দুর্বৃত্ত গতকাল দিবাগত রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা দায়িত্বরত দুজন গার্ডকে বেঁধে মারধর করেন।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ওষুধ লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, তিনটি এসি, তিনটি ফ্রিজ, সিসিটিভি ক্যামেরা, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ আসবাবপত্র লুট করা হয়েছে। নগদ ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকাও খোয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে যায়।

লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি বা ভেকু ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। ডা. নাসরিন আখতারের ভাষ্যমতে, ১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় গাছপালা উপড়ে ফেলা হয় এবং পাশের ভ্রাম্যমাণ দোকান মালিকদের দ্রুত মালামাল সরানোর জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় দেয়া হয়। একপর্যায়ে বুলডোজার দিয়ে সবগুলো ঘর ভেঙে ফেলেন।

উল্লেখ্য, গত ৫০ বছর ধরে সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এই সেন্টারটি এলাকার দরিদ্র ও অসহায় নারী ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রসূতি, শিশুস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছিল। আগামী শুক্রবার থেকে কেন্দ্রটিতে সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হামলার ফলে পুরো কার্যক্রম থমকে গেছে। নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এটি।

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ডা. নাসরিন আখতার অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওসি জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে দায়ীদের বিচারের দাবিতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১টার দিকে ২০০ থেকে ২৫০ জন মানুষ এসে পুরো এলাকা ঘিরে নেয়।

শেয়ার করুন