১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীতল সম্পর্ক উষ্ণ করতে ফিরল পান্ডা

প্রকাশ:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শুল্ক যুদ্ধ, খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং তাইওয়ান ও ইরান সংঘাতসহ নানাবিধ ইস্যুতে বর্তমানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পরাশক্তির সম্পর্কের এই বরফ গলানোর প্রচেষ্টায় বেইজিং আবারও তাদের পুরনো ‘পান্ডা কূটনীতি’ সক্রিয় করেছে। ওয়াশিংটন সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা চিড়িয়াখানায় দুটি বিশালাকার পান্ডা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এক দশকের বেশি সময় পর শি জিনপিংয়ের এই সফরকালে গৃহীত এমন সিদ্ধান্তকে দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শি জিনপিং জানান, চেংদুর প্রজনন কেন্দ্র থেকে পিং পিং এবং ফু শুয়াং নামের দুটি পান্ডা দ্রুতই জর্জিয়ার আটলান্টা চিড়িয়াখানায় এসে পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেখানকার আগের পান্ডাগুলো চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পান্ডা পাঠানোর পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ তরুণ আমেরিকান শিক্ষার্থীকে চীনে পড়াশোনার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর একটি বিশেষ ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে পান্ডা আদান-প্রদান সবসময়ই এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক বেইজিং সফরের পর চীন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে এক জোড়া পান্ডা উপহার পাঠিয়েছিল। তবে ১৯৮৪ সাল থেকে উপহারের পরিবর্তে নির্দিষ্ট মেয়াদে পান্ডা লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করে বেইজিং। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দেওয়া ছাড়াই জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এবং দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক কূটনৈতিক আবহ তৈরি করতে বেইজিং অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে।

শেয়ার করুন