১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফোর্বস তালিকার শীর্ষ ১০০ পর্যটন নেতৃত্বে কাতারের তিন নির্বাহী

প্রকাশ:

মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন, বিমান চলাচল এবং আবাসন খাতের প্রসারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফোর্বস মিডল ইস্ট তাদের মর্যাদাপূর্ণ ‘টপ ১০০ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম লিডার্স ২০২৬’ তালিকা প্রকাশ করেছে। এই আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পেয়েছেন কাতার এভিয়েশন, সরকারি পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের তিন শীর্ষস্থানীয় নির্বাহী, যা বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিফলন।

১. হামাদ আল খাতার

  • প্রতিষ্ঠান: কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপ
  • পদবি: গ্রুপ সিইও
  • অবস্থান: মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক তালিকায় ২য় স্থান

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর হামাদ আল খাতার তার দক্ষ নেতৃত্বে বৈশ্বিক বাজারে কাতার এয়ারওয়েজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩১৩টি বিমানের বহর নিয়ে গ্রুপটি ১৮৩টি গন্তব্যে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ২৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব এবং ১.৯৪ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এছাড়া বোয়িং ও জিই অ্যারোস্পেসের সাথে ২১০টি বিমান ও ৪০০টি ইঞ্জিন সংগ্রহের বড় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আল খাতার এর আগে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২. আব্দুল আজিজ আলী আল-মাওলাভি

  • প্রতিষ্ঠান: ভিজিট কাতার
  • পদবি: সিইও
  • অবস্থান: পাবলিক সেক্টর ক্যাটাগরিতে ১৯তম

২০২৪ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আল-মাওলাউই আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাতারে আকৃষ্ট করতে কাজ করছেন। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৫১ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.৭ শতাংশ বেশি। এই সময়ে আতিথেয়তা খাতে ১ কোটি ৮ লাখ রুম-নাইট বিক্রির মাধ্যমে ২৩০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ২৩ লাখ ৪০ হাজার পর্যটক কাতার ভ্রমণ করেছেন। পর্যটন প্রসারের লক্ষ্যে জুন মাসে তিনি চীন সফর করেন এবং ‘ফ্লিগি’ ও ‘হুয়াওয়ে’-এর সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক পর্যটন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

৩. তারেক এম এল সায়েদ

  • প্রতিষ্ঠান: আল রায়ান ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (ARTIC)
  • পদবি: ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও
  • অবস্থান: হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস ক্যাটাগরিতে ৩৩তম

২০০১ সালে আল ফয়সাল হোল্ডিংয়ে যোগদানের পর ২০১৭ সাল থেকে তারেক এম এল সায়েদ আর্টিকে-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দোহা, কায়রো, রোম, ইস্তাম্বুল, বার্লিন ও মায়ামিসহ ১৪টি শহরে তাঁর অধীনে ৩০টি হোটেল ও রিসোর্ট, ৮ হাজারেরও বেশি হোটেল কক্ষ, ১,৮৩০টি আবাসিক ইউনিট এবং প্রায় ১,০০,০০০ বর্গমিটার বাণিজ্যিক স্থানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি সেলদার হোল্ডিং-এর চেয়ারম্যান এবং মাল্টার বিএনএফ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও কর্মরত আছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কাতারের এই তিন খাতের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতিই ফোর্বসের এই তালিকায় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫ সালে কাতারে মোট ৫১ লাখ (৫.১ মিলিয়ন) পর্যটক আগমন রেকর্ড করা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় আতিথেয়তা খাতে ১ কোটি ৮ লাখ (১০.৮ মিলিয়ন) ‘রুম-নাইট’ বিক্রি হয় এবং আবাসন খাত থেকে প্রায় ২৩০ কোটি (২.৩ বিলিয়ন) ডলার আয় অর্জিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তালিকায় স্থান পাওয়া কাতারের তিন শীর্ষ নির্বাহী ও তাদের উল্লেখযোগ্য অবদানগুলো নিচে তুলে ধরা হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত নেতৃত্বে আতিথেয়তা ও আবাসন খাতের প্রসার আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কাতারের এভিয়েশন ও ট্যুরিজম সেক্টর যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে, ফর্বস-এর এই সম্মানজনক তালিকা তারই এক উজ্জ্বল ও মুন্সিয়ানা সাক্ষ্য বহন করে।

শেয়ার করুন