৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের পথে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দল তার সাথে রয়েছে।

প্রতিনিধি দলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম রয়েছেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ও জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। নিউইয়র্কে পৌঁছে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এদিন সকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেবেন এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি থাকার কথা রয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন। এরপর ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। একই দিন বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেবেন। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকটসহ নানামুখী বিষয় তুলে ধরবেন। এছাড়া একই দিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলা বিষয়ক সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি।

বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইতে ২৩ সেপ্টেম্বর একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নেবে। এছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দক্ষ ধাত্রীসেবার গুরুত্ব তুলে ধরবেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন হাই কমিশনার ও আন্তর্জাতিক পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সাথেও তার সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিভিন্ন শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যতের রূপরেখা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।

এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ নতুন সরকারের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। পাশাপাশি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবারের অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের জন্য একটি বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

প্রধানমন্ত্রী তার সফর নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চাই। সবশেষে, নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি সম্পন্ন করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এসব সভায় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।

শেয়ার করুন