৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুগদা হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভিড়

প্রকাশ:

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। শয্যা না পাওয়ায় অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে তোশক বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোববার সকালে সরজমিন দেখা যায়, ওয়ার্ডের ভেতরে শিশুদের ঘিরে স্বজনদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। প্রায় প্রতিটি শিশুর হাতে ক্যানুলা লাগানো এবং তাদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। স্বজনরা কখনো ওষুধ কিনতে ছুটছেন, কখনো পরীক্ষার কাগজ নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন, আবার কখনো দুশ্চিন্তায় রোগীর পাশে বসে সময় পার করছেন।

পাঁচ বছর বয়সী নাফিয়া পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। শনিবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বাবা নূর আলম জানান, নাফিয়া হাম ও ডেঙ্গুর মতো জটিল সমস্যায় আক্রান্ত। শুধু তাই নয়, শিশুটির হৃদ্‌যন্ত্রে ছিদ্রও রয়েছে। মেয়ের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার মা মাহমুদা আক্তার জানান, চিকিৎসকেরা সকালে দেখে জানিয়েছেন যে তার অবস্থা বেশ খারাপ। ওষুধ এবং চিকিৎসকের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শিশুটি সুস্থ হয়ে না ওঠায় বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই।

শিশু ওয়ার্ডের অন্য রোগীদের অবস্থাও বেশ সংকটাপন্ন। ৯ বছর বয়সী শারিনা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহ ধরে ভুগছে। বৃহস্পতিবার থেকে মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শারিনার বাবা আশিকুর রহমান জানান, ভর্তির সময় তার মেয়ের প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে ৩৪ হাজারে নেমে গিয়েছিল। সেই সময় চিকিৎসকেরা রক্তদাতা প্রস্তুত রাখতে বলেছিলেন। বর্তমানে শারিনার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত হলেও তার রক্তচাপ ওঠানামা করছে, যা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বেশ শঙ্কিত। আজ তাকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বাবা আশিকুরের দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটেনি।

একই ওয়ার্ডের এক কোনায় মেঝেতে তোশক পেতে শুইয়ে রাখা হয়েছে ১১ বছর বয়সী আয়েশাকে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এই শিশুটি তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। তার বাবা মো. সজীব জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সব কিছু স্বাভাবিক দেখালেও মেয়েটি এখনো সুস্থ হয়ে ওঠেনি। ওয়ার্ডজুড়ে এমন বহু শিশুর স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের সুস্থতা নিয়ে দিনরাত এক করে ফেলছেন। সঠিক সেবা ও চিকিৎসার আশায় হাসপাতালের মেঝেতেও দীর্ঘ সময় কাটাতে হচ্ছে রোগীদের, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেড না মেলায় হাসপাতালের মেঝেতেই তার চিকিৎসা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রেও ছিদ্র ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সন্তানের একের পর এক অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে নাফিয়ার বাবা যেন নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ কেউ বিছানায় জায়গা পেয়েছে, কারও ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাফিয়ার বেশ কাছেই একটি বেডে ৯ বছরের শারিনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছুক্ষণ পরপরই গায়ে হাত দিয়ে দেখছেন জ্বর আছে কি না, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কি না।

শেয়ার করুন