৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় কুমিল্লায় তিন তরুণ গ্রেপ্তার

প্রকাশ:

কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকা থেকে নিখোঁজ কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর, এছাড়া আরও দুই কিশোর রয়েছে।

পুলিশ সুপারের ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বাসা থেকে বেরিয়েছিল অপ্রতিম। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ছেলের সন্ধানে তার মা ড. নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনও জানিয়েছিলেন। শনিবার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে অপ্রতিমকে আইফোন দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চালায় আসামিরা। সে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার পরপরই তুহিন আইফোনটি নিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তুহিনের শোয়ার ঘরের তোশকের নিচ থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িত তুহিন প্রথমে পুলিশকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করলেও পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। নিহতের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শনিবার রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করার পর এই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে আটকের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ, যার সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় দ্রুততার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়লেও ২০২৫ সালে ড্রপআউট হয়েছে বলে পুলিশের তথ্যে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘একটানা জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তুহিন স্বীকার করে যে, ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে নির্জন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ঘটনায় ফাহাদ এবং তার আরেক এক বন্ধু জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইফোনটি পেতে তিন জায়গায় আমরা অভিযান চালাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও না পেয়ে অবশেষে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাসার ভেতরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘এছাড়াও আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করেছি।

শেয়ার করুন