১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ইসি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা

প্রকাশ:

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের মধ্যে কিছুটা সমন্বয়হীনতা দৃশ্যমান হয়েছে। গত সোমবার ইসি সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করে। ইসি প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ১৭ জানুয়ারি এবং পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে আগামী বছরের ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট করার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে এর এক দিন পরই সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন যে, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা যোগাযোগ করা হয়নি। এমনকি ইসির এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

ইসি সোমবার সাত ধাপের নির্বাচনের যে তারিখ ঘোষণা করেছিল, তা ছিল প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে সরকার কিছুই জানে না। তিনি দাবি করেন, ইসির সঙ্গে সরকারের কোনো চিঠি-চলাচলি বা আলোচনা হয়নি, অন্য কোনো মাধ্যমে আলোচনাও হয়নি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ঘোষিত সময়সূচি একেবারেই প্রাথমিক। ১৭ সেপ্টেম্বর আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে 'শিরোধার্য' বলে উল্লেখ করলেও সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ইসি সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের এখতিয়ার কমিশনের। যেমন ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করবে। তবে প্রথা অনুযায়ী নির্বাচনের আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও চিঠি আদান-প্রদান করা হয়। জুলাই মাসে ইসি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে তথ্য চেয়ে চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘোষিত নির্বাচনের তারিখ নিয়েও কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী এবং ১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গণিত বিষয়ের তারিখ রয়েছে। পরীক্ষার দিন ভোট নেওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এদিকে, এনসিপি এক বিবৃতিতে ইসির ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ ও কমিশনের আজ্ঞাবহ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংবিধান ও স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব ইসির ওপর ন্যস্ত থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিশন ও সরকারের মধ্যে এই সমন্বয়হীনতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন