৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ছাড়াল

প্রকাশ:

দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের যখন সংসারের ব্যয় মেটাতে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, তখন ব্যাংকিং খাতে ভিন্ন এক চিত্র উঠে এসেছে। বিত্তশালী ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মার্চ শেষে এ ধরনের হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি। অর্থনীতির এই বিপরীতমুখী চিত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়ার বিপরীতে বড় ব্যবসা ও বিত্তশালী শ্রেণির একটি অংশের আয় ও ব্যাংক আমানত বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা এবং মোট হিসাবের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এর তিন মাস আগে অর্থাৎ মার্চ শেষে মোট হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি এবং আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা এবং হিসাব বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটি টাকার বেশি হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশের প্রকৃত কোটিপতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কারণ, এসব হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার হিসাব থাকতে পারে। এছাড়া একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারায় হিসাবের সংখ্যা এবং প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। এরপর থেকে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, যা ২০২১ সালে ১ লাখ ৯৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালে ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টিতে উন্নীত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সংখ্যাটি ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টিতে পৌঁছানোর পর চলতি বছরের জুন শেষে তা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতিদের হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।

শেয়ার করুন