প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ২৪। শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করেছেন আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাকে তার অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর উপাচার্য খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আর্কিটেকচার বিভাগে ১৬ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। এই শিক্ষকস্বল্পতার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করতে পারছেন না। ২০১৮ সালে বিভাগটি যাত্রা শুরুর পর ৮ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাচ পাস করতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষক সংকটের কারণে তারা ৩ থেকে ৪ বছরের সেশনজটে পড়েছেন, যার ফলে তাদের চাকরির বয়স শেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রমিক্স বাড়ৈ রুদ্র বলেন, মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে একটি বিভাগ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বারবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কেবল আশ্বাসই মিলেছে। আরেক শিক্ষার্থী শোয়েবুল আলম জানান, সেমিস্টারের মেয়াদ ৬ মাস হলেও শিক্ষক সংকটের কারণে তা শেষ করতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগছে। এভাবে চলতে থাকলে ১০টি সেমিস্টার শেষ করতে ১০ থেকে ১২ বছর সময় লেগে যাবে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইউজিসিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো অনুমতি পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ না পাওয়া পর্যন্ত আপাতত পাঁচজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষার্থী রমিক্স বাড়ৈ রুদ্র (২০২০-২০২১ সেশন) বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টে মাত্র তিনজন শিক্ষক আছেন, যেখানে থাকার কথা ১৬ জন। এই তিনজন শিক্ষক দিয়ে তো একটি ডিপার্টমেন্ট চলতে পারে না। এতে আমাদের নিয়মিত ক্লাস হয় না, আমরা কিছু শিখতেও পারছি না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বারবার শিক্ষকের কথা বলেছি, তারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছে।’
আরেক শিক্ষার্থী শোয়েবুল আলম (২০২০-২০২১ সেশন) বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে আমাদের সেশনজট বাড়ছে। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে ৪ বছরের সেশনজটে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাবে কিন্তু পড়াশোনা শেষ হবে না। আমাদের সেমিস্টারের মেয়াদ ৬ মাস হলেও একেকটি সেমিস্টার শেষ হতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগছে। এভাবে ১০টি সেমিস্টার শেষ হতে ১০ থেকে ১২ বছর লেগে যাবে।





