৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাচাইয়ে পুলিশের জন্য হাইকোর্টের নতুন নির্দেশনা

প্রকাশ:

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পেলেই কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ব্যবহার করে নাগরিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে অবশ্যই আগে পুলিশের কেন্দ্রীয় ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে পরোয়ানাটির সত্যতা যাচাই করতে হবে। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) একটি সার্কুলার জারি করে তা দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে নালিশি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নিম্ন আদালতের সব বিচারকের কাছে নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে যে কোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এজন্য আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ড এবং বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেন, কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে নির্ধারিত বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে তা নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী বলে রায়ে মন্তব্য করা হয়েছে।

শেয়ার করুন